সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন জীবন রক্ষাকারী এক কৌশল। এটি সাধারণত কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাক হলে জীবন রক্ষা করে। বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ সিপিআর সম্পর্কে জানে না। ২ শতাংশের ধারণা থাকলেও অপরিচিত হওয়ায় উৎসাহিত হন না।
রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, হাসপাতালে, রাস্তাঘাটে চলার পথে আপাতদৃষ্টে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের যেকোনো সময়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষের সিপিআর প্রসঙ্গে জানা ও প্রশিক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।
কর্মশালায় সিপিআর প্রসঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির যখন হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়ে ক্যারোটিড পালস না থাকে, তখনই দ্রুত সিপিআর শুরু করতে হবে।
কিভাবে সিপিআর দিবেন
আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোরে জোরে ডাকতে হবে, কোনো সাড়া দেন কি না বোঝার জন্য। শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সাড়া না দেন এবং ক্যারোটিড পালস না থাকে, তাহলে সিপিআর শুরু করতে হবে। দুই হাতের তালু এক করে বুকের মাঝের অংশে রেখে বুকে চাপ বা চেস্ট কম্প্রেশন শুরু করতে হবে।
প্রতি মিনিটে ১০০-১২০ বার হিসাবে দিতে হবে। চাপ দেওয়ার গভীরতা হবে প্রায় ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি।
বুকে প্রতি ৩০টি চাপ দেওয়ার পর দুইবার কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বন্ধ করে মুখের মাধ্যমে শ্বাস দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে বুক ওপরে উঠছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে ১৫:২ পদ্ধতি মানতে হয়। একেবারে ছোট শিশুর বুকে চাপ দেওয়ার সময় দুই আঙুল ব্যবহার করা হয় এবং মুখ-নাক ঢেকে শ্বাস দেওয়া হয়। দুই মিনিট পরপর ক্যারোটিড পালস চেক করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিফ ফিজিশিয়ান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডা. সৈয়েদা সায়েদা আলেয়া সুলতানা বলেন, ‘হৃদরোগে আক্রান্তদের সাহায্যকারী বাড়াতে পারলে অনেক জীবন বাঁচানো যাবে। সচেতনতা শুধু দিবসকেন্দ্রিক হলে চলবে না, প্রতিদিন এ নিয়ে কাজ করতে হবে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় হতে পারে। তাই সবার জানা জরুরি।’
প্রধান অতিথি সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ডা. কাজী মো. রশিদ-উন-নবী বলেন, ‘সুস্থ জীবনের জন্য হৃৎপিণ্ডের যত্ন নিতে হবে। কার কখন কিভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হবে তা কেউ জানে না। তাই সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।’
স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল নতুনভাবে ৫০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ চালু করতে যাচ্ছে। এটি আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন হবে। বর্তমানে হাসপাতালের ২০ শয্যার সিসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ চালু আছে। এ ছাড়া ৬ষ্ঠ তলায় ২০ শয্যার এনআইসিইউ স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ১০০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ৬০ জন রোগী ৪৭০ টাকায় সেবা পাচ্ছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিগগিরই আরো ৩০ শয্যা বাড়ানো হবে। নতুন ইউনিট চালু হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবেন।’
কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি, হেলদি হার্ট হ্যাপি লাইফ অর্গানাইজেশনের (হেলো) সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. কাউয়ুম খান, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
