Blog Details

সিপিআর বাঁচাতে পারে লাখো প্রাণ

06 Oct 2025 - clippings , News & events
shape
shape
shape
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ পিএম

দেশে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদ্‌যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া) মৃত্যু বাড়ছে। সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এই আকস্মিক মৃত্যু অনেকটা কমানো সম্ভব। 

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রথম পাঁচ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সিপিআর পদ্ধতি প্রয়োগ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লাখো রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

সিপিআর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমেদ। তিনি বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হার্ট থেমে যায়, পালস থাকে না, শ্বাস থাকে না। ৯–১০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়। এই সময়ের মধ্যে ডাক্তারের কাছে নেওয়া সম্ভব না। তখন সিপিআর দিতে পারলে রোগী বেঁচে উঠতে পারেন। সেজন্য সবার সিপিআর দেওয়া জানতে হবে। পাঠ্যক্রমে বিষয়টি যুক্ত করা জরুরি।

তিনি জানান, প্রথমে দেখতে হবে রোগীর শ্বাস আছে কিনা। না থাকলে পাশের কাউকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষনিক সিপিআর শুরু করতে হবে। বুকের মাঝে জোরে জোরে ৩০ বার দুই ইঞ্চি পরিমান ডাবে এমন জোরে চাপ দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে তা দেড় ইঞ্চি। ৩০ বার বুকে চাপ দেওয়ার পর নাক চেপে ধরে রোগী মুখে দুইবার ফু দিতে হবে। আবার বুকে একই নিয়মে চাপ দেওয়া শুরু করতে হবে। ৩০ বার হলে আবার একই ভাবে নাক চেপে মুখে ফু দিতে হবে। এভাবে ৩০ মিনিট দিতে হবে। এরমধ্যে ট্রিপল নাইনে কল দেওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স চলে আসলে তাতে যেতে যেতে সিপিআর দিতে থাকতে হবে।

 কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএমএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মো. রশিদ-উন-নবী। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোয় স্কুল লেভেলেই সিপিআর শেখানো হয়। কখন কার দরকার হবে, কেউ জানে না। সবাই সিপিআর জানলে অন্তত একজনকে বাঁচিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর সুযোগ পাওয়া যায়। 

হেলদি হার্ট হ্যাপি লাইফ অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি এই হাসপাতালের চিকিৎসার নানা বিষয় তুলে ধরেন বলেন, আগামী তিন মাসে একটি প্যাভিলিয়ন চালু হলে, সব সেবা এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। আমাদের টিম সব সময় রোগী, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের পাশে আছে। আগামীতে কুর্মিটোলা হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন সিএমএইচ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিফ ফিজিশিয়ান জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডা. সায়েদা আলেয়া সুলতানা, হেলদি হার্ট হ্যাপি লাইফ অর্গানাইজেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. কাইয়ুম খান ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি। 

Comment

Advancing Heart Care, Together

Contact Me